ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেকনাফ স্থলবন্দর চালু: নিরাপত্তা ও বাস্তবতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংশয়

  • বিজনেস রিপোটার
  • আপডেট সময় ১২:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ স্থলবন্দর। ছবি- সংগৃহীত


মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আটকে আছে। বন্দর সচল হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ সমন্বয় সম্ভব হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

মিয়ানমারের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বন্দর পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দর সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ব্যবসায়ীদের মতে, কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক পরিচালক আবেদ আহসান সাগর বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আপত্তিই এতদিন বন্দর চালু না হওয়ার বড় কারণ ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চোরাচালান বৃদ্ধি, সীমান্ত পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

বৈঠকে বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা পোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব এলেও ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বন্দরের নিজস্ব আইনগত কাঠামো রয়েছে, যা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তবে পণ্য তদারকির জন্য স্ক্যানার বসানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন বলেন, বন্দর প্রস্তুত থাকলেও এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। পণ্য আসা শুরু হলে তবেই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নাফ নদীতে নৌপথ ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্যবাহী ট্রলার চলাচলে বিভিন্ন গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে, যা বাণিজ্যের বড় বাধা।

তারা মনে করেন, নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় ড্রেজিং করে বিকল্প নৌপথ তৈরি না হলে বন্দর আবারও অচল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আটকে আছে। বন্দর সচল হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ সমন্বয় সম্ভব হবে।

যদিও কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বন্দর চালুর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এতে পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপণ্য কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

এদিকে বিজিবি বলছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হলেও ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে কার্যত টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

টেকনাফ স্থলবন্দর চালু: নিরাপত্তা ও বাস্তবতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংশয়

টেকনাফ স্থলবন্দর চালু: নিরাপত্তা ও বাস্তবতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংশয়

আপডেট সময় ১২:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

টেকনাফ স্থলবন্দর। ছবি- সংগৃহীত


মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আটকে আছে। বন্দর সচল হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ সমন্বয় সম্ভব হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

মিয়ানমারের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বন্দর পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দর সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ব্যবসায়ীদের মতে, কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক পরিচালক আবেদ আহসান সাগর বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আপত্তিই এতদিন বন্দর চালু না হওয়ার বড় কারণ ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চোরাচালান বৃদ্ধি, সীমান্ত পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

বৈঠকে বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা পোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব এলেও ব্যবসায়ীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বন্দরের নিজস্ব আইনগত কাঠামো রয়েছে, যা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তবে পণ্য তদারকির জন্য স্ক্যানার বসানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন বলেন, বন্দর প্রস্তুত থাকলেও এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। পণ্য আসা শুরু হলে তবেই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নাফ নদীতে নৌপথ ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্যবাহী ট্রলার চলাচলে বিভিন্ন গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে, যা বাণিজ্যের বড় বাধা।

তারা মনে করেন, নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় ড্রেজিং করে বিকল্প নৌপথ তৈরি না হলে বন্দর আবারও অচল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আটকে আছে। বন্দর সচল হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ সমন্বয় সম্ভব হবে।

যদিও কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বন্দর চালুর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এতে পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপণ্য কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

এদিকে বিজিবি বলছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হলেও ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে কার্যত টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।