ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি ও তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৫০টি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশও একটি ‘ফ্যাসিবাদী’ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় যাতে মানুষ আবারও পুলিশকে তাদের বন্ধু মনে করে।

তিনি জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর এসে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চায় যেখানে সবাই নিয়ম ও দায়িত্ব মেনে কাজ করবে, যাতে কোনো ‘ব্যক্তিনির্ভর’ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বা স্বৈরাচারী আদেশ পালন করা হবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জবাবদিহিতার সঙ্গে বাহিনী পরিচালনা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের জনবল ও সরঞ্জাম সংকটসহ বিভিন্ন বিভাগীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এসব সমাধানে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান।

একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ভাঙার অনুমতি দেয়নি।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, চেইন অব কমান্ড অবশ্যই বজায় রাখতে হবে, যেন অধস্তন কর্মকর্তারা তাদের ঊর্ধ্বতনদের এড়িয়ে সরাসরি উচ্চপদস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন।

তবে তিনি জানান, প্রয়োজনে একজন মন্ত্রী যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একইভাবে আইজিপি বা পুলিশ কমিশনারও কাজের প্রয়োজনে যেকোনো পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে মূল চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন থাকবে।

ঢাকার যানজট ও ক্রমবর্ধমান যানবাহন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সেল গঠন করা হয়েছে এবং ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার ‘অবাধ’ চলাচলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক রিকশা ভিআইপি এবং প্রধান সড়কে চলাচল করছে, যা নিষিদ্ধ। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণে একটি পাইলট প্রকল্প শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়ক এবং পরবর্তীতে ভিআইপি রোড ও সচিবালয় অভিমুখে এই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকর করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রুটেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ প্রায়ই সিগন্যাল মানে না এবং লেন ব্লক করে যানজট সৃষ্টি করে। সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে চায়, যাতে মানুষ লেন মেনে চলে এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করে।

পরিচয় পাওয়ার পর সাংবাদিকদের হয়রানি না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিএমপি সদর দপ্তরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হলেও এটি একটি সাধারণ নীতি হিসেবে মেনে চলা উচিত। সাংবাদিকদের পরিচয় পাওয়ার পর তাদের হয়রানি করা ঠিক নয়।

হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলেই মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন হয় না।

চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি ও তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৫০টি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশও একটি ‘ফ্যাসিবাদী’ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় যাতে মানুষ আবারও পুলিশকে তাদের বন্ধু মনে করে।

তিনি জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর এসে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চায় যেখানে সবাই নিয়ম ও দায়িত্ব মেনে কাজ করবে, যাতে কোনো ‘ব্যক্তিনির্ভর’ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বা স্বৈরাচারী আদেশ পালন করা হবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জবাবদিহিতার সঙ্গে বাহিনী পরিচালনা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের জনবল ও সরঞ্জাম সংকটসহ বিভিন্ন বিভাগীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এসব সমাধানে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান।

একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ভাঙার অনুমতি দেয়নি।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, চেইন অব কমান্ড অবশ্যই বজায় রাখতে হবে, যেন অধস্তন কর্মকর্তারা তাদের ঊর্ধ্বতনদের এড়িয়ে সরাসরি উচ্চপদস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন।

তবে তিনি জানান, প্রয়োজনে একজন মন্ত্রী যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একইভাবে আইজিপি বা পুলিশ কমিশনারও কাজের প্রয়োজনে যেকোনো পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে মূল চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন থাকবে।

ঢাকার যানজট ও ক্রমবর্ধমান যানবাহন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সেল গঠন করা হয়েছে এবং ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার ‘অবাধ’ চলাচলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক রিকশা ভিআইপি এবং প্রধান সড়কে চলাচল করছে, যা নিষিদ্ধ। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণে একটি পাইলট প্রকল্প শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়ক এবং পরবর্তীতে ভিআইপি রোড ও সচিবালয় অভিমুখে এই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকর করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রুটেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ প্রায়ই সিগন্যাল মানে না এবং লেন ব্লক করে যানজট সৃষ্টি করে। সরকার জনসচেতনতা বাড়াতে চায়, যাতে মানুষ লেন মেনে চলে এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করে।

পরিচয় পাওয়ার পর সাংবাদিকদের হয়রানি না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিএমপি সদর দপ্তরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হলেও এটি একটি সাধারণ নীতি হিসেবে মেনে চলা উচিত। সাংবাদিকদের পরিচয় পাওয়ার পর তাদের হয়রানি করা ঠিক নয়।

হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলেই মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন হয় না।