বিএনপি-যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে পুলিশ|ছবি: সংগ্রহীত
নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বাংলার সীমান্তকে নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, খায়ের উদ্দিন, আব্দুল মতিন, জোনায়েত মিয়া, কালু মিয়া, খলিলুর রহমান, আল আমিন, পশিদ মিয়া, মনির হোসেন, মজিবুর রহমান, সালাউদ্দিন মিয়া, বিল্লাল হোসেন, শুভ মিয়া, জুনায়েদুর রহমান জুনায়েত, রাজীব মিয়া, আহাদ মিয়া, তামিম মিয়া, আব্দুর রহিম, আলমগীর হোসেন, স্বপন মিয়া, আমির আলী, জমির আলী, রাফি মিয়া। তাদের মধ্যে খায়ের উদ্দিন, আব্দুল মতিন, জোনায়েত মিয়া, কালু মিয়া, খলিলুর রহমান ও আল আমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, হোমনা ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি কবির হোসেনের সঙ্গে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহিরুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। কবির হোসেন তাঁর বলয় ভারী করার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের অনুসারীদের দলে ভেড়ান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ২৪ জুলাই রাতে বিএনপি নেতা কবির হোসেন ও তাঁর অনুসারী আউয়াল মিয়া, শফিকুল ইসলাম, আরমান হোসেন, সোহাগ মিয়া, কবির হোসেন, রিজভী মিয়া, আব্দুল আউয়াল, সেন্টু মিয়া, পিয়ার আলী মিলে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামের চাচা রিপন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইও) গত ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান রিপন। পরে তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা কবির হোসেন, তাঁর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রিজভী মিয়া, আউয়াল মিয়া, শফিকুল ইসলাম, আরমান হোসেন, সোহাগ মিয়া, আব্দুল আউয়াল, সেন্টু মিয়া, পিয়ার আলীসহ ১৭ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় আরও আটজনকে। এ ঘটনার পর তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত শুক্রবার বিকেলে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামের লোকজনের সঙ্গে বিএনপি নেতা কবির হোসেনের অনুসারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় খালিয়ারচর এলাকা। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এখনও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহিরুল ইসলামের ভাষ্য, রিপন মিয়া হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ হিসেবে কবির হোসেন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের অনুসারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলি চালায়। বিএনপি নেতা কবির হোসেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে দল ভারী করে এলাকায় চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদা না দেওয়ায় রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ গ্রেপ্তার না করায় এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছেন আসামিরা।
রিপন হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি কবির হোসেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার নামাজ শেষে তাঁর অনুসারী জাহেদ আলীকে রাত পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করে ফকির জহিরুল ইসলামের লোকজন। জাহেদ আলীকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসার সময় বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ফকির জহিরুলের প্রায় ১০০ লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁর অনুসারী সেন্টু মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, জজ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, ফজলু মিয়া, রাজীব, সোহাগ মিয়া, সোহেল মিয়া, আশক আলী, জিয়াউর রহমান জিয়া ও আনিসুর রহমান আনিস গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। রিপন হত্যা মামলার আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ 



















