ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উখিয়ায় খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মহিলা দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo চট্টগ্রামে ১১ জেলায় নতুন এসপি হলেন যারা Logo জামায়াতের বৈঠকে খালেদা জিয়া ও ডা. তাহেরের জন্য দোয়া Logo উখিয়ার দুই সন্তানের পিতা মামুন বিরল রোগে মানসিক ভারসাম্যহীন, ব্যয়বহুল চিকিৎসায় দরকার মানবিক সহায়তা Logo চট্টগ্রামে বিয়ে বাড়ি ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট Logo আগামী কাল চট্টগ্রামে আসছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান Logo চট্টগ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫ Logo চট্টগ্রামে ফের দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল কৃষকের পাকা ধান Logo উখিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।  Logo উখিয়ায় বিদ্যুতিক ফাঁদে একের পর এক বন্যহাতি হত্যা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে দায়ী করছে বন বিভাগ।

জামায়াত নেতাকে খুন করছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলের বিক্ষোভ

  • মরজান আহমদ
  • আপডেট সময় ০৮:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতার নাম আমজাদ হোসেন (২৫)। তিনি কুরআনের হাফেজ ও জামায়াতের যুব বিভাগের একটি ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন। নিহত আমজাদ ওই এলাকার মৃত নুরুল কবিরের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আমজাদ দীর্ঘদিন সৌদিতে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি জামায়াতের যুব বিভাগে সক্রিয় হন। শিগগিরই তার বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।

ঘাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার নাম রাফি। তিনি ওয়ার্ড সভাপতি এবং একই এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার জেরে রাফি ও তার সহযোগীরা আমজাদের ওপর হামলা চালান। নতুন মহাল বাজারে প্রকাশ্যে রাফি ও আরও দুই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমজাদকে আঘাত করেন। এতে তার পেটে দুটি ও পিঠে একটি গুরুতর ক্ষত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই ও কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার ভাই আমজাদকে ছাত্রলীগের চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা পূর্ব-শত্রুতার জেরে নির্মমভাবে খুন করেছে। আমি এর বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।

কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, রাফি ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জমি দখল ও মামলা-মোকদ্দমা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

এদিকে নিহত আমজাদের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদল নেতা হওয়ায় হত্যার প্রতিবাদে রাতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ করেছে জেলা ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো মামলার কোনো এজাহার জমা পড়েনি। তবে ঘটনায় জড়িত এহসান নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ট্যাগস :

উখিয়ায় খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মহিলা দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জামায়াত নেতাকে খুন করছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলের বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতার নাম আমজাদ হোসেন (২৫)। তিনি কুরআনের হাফেজ ও জামায়াতের যুব বিভাগের একটি ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন। নিহত আমজাদ ওই এলাকার মৃত নুরুল কবিরের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আমজাদ দীর্ঘদিন সৌদিতে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি জামায়াতের যুব বিভাগে সক্রিয় হন। শিগগিরই তার বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।

ঘাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার নাম রাফি। তিনি ওয়ার্ড সভাপতি এবং একই এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার জেরে রাফি ও তার সহযোগীরা আমজাদের ওপর হামলা চালান। নতুন মহাল বাজারে প্রকাশ্যে রাফি ও আরও দুই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমজাদকে আঘাত করেন। এতে তার পেটে দুটি ও পিঠে একটি গুরুতর ক্ষত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই ও কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার ভাই আমজাদকে ছাত্রলীগের চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা পূর্ব-শত্রুতার জেরে নির্মমভাবে খুন করেছে। আমি এর বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।

কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, রাফি ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জমি দখল ও মামলা-মোকদ্দমা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

এদিকে নিহত আমজাদের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদল নেতা হওয়ায় হত্যার প্রতিবাদে রাতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ করেছে জেলা ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো মামলার কোনো এজাহার জমা পড়েনি। তবে ঘটনায় জড়িত এহসান নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।