কক্সবাজারের উখিয়ায় ফাঁদ পেতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে একটি বন্যহাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণমারা মুছতলী এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শামসুল আলম এর ছেলে আলমগীর ও আলী হোছন এর ছেলে বাবুল মিয়া পাহাড় কেটে তৈরি করা জমিতে ধান চাষ করতেন। সোমবার ধান কাটা শেষে রাত হয়ে গেলে তিনি ধানক্ষেতেই ধান রেখে বাড়ি ফিরে যান। তবে যাওয়ার আগে ধান রক্ষার নামে ক্ষেতের চারপাশে অবৈধভাবে বিদ্যুতায়িত তার পেতে রাখেন।
রাতে খাবারের সন্ধানে মাঠে ঢুকে একটি বন্যহাতি সেই বিদ্যুতায়িক তারে জড়িয়ে হাতিটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা মৃত হাতিটি দেখতে পেলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আলমগীর ও বাবুল মিয়া রাতেই ধান বাড়িতে সরিয়ে নেন এবং হাতির মৃতদেহ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখেন। বন বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর ও বাবুল মিয়া ধান রক্ষার জন্য বিদ্যুৎ ফাঁদ বসিয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সকালে আমরা কাজে যাওয়ার পথে দেখি একটি হাতি পড়ে আছে শরীরে তার জড়ানো ছিল। স্থানীয় বনবিভাগকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। আরো বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু অসাধু কর্মচারী অতিরিক্ত ঘুষের বিনিময়ে বনাঞ্চলের ভেতরে নতুন সংযোগ দিয়ে থাকেন। এতে দিনের পর দিন বন্যপ্রাণীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটির সামনের অংশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার দাগ পাওয়া গেছে এবং আরো কয়েকটি চিহ্ন দেখা গেছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলেন জানান।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান বাংলার সীমান্তকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের সটে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেছেন। পোরো এরিয়াটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ করার পরেও বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করছে না। তিনি আরো বলেন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে বনাঞ্চলে বিদ্যুতের সট দিয়ে একের পর এক বন্য হাতি হত্যা করতেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরে উখিয়া উপজেলায় এটি তৃতীয় বন্যহাতি হত্যার ঘটনা। ধারাবাহিক এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হত্যাকাণ্ড যদি বন্ধ করা না যায় অচিরেই বন্যপ্রাণী শূন্য হয়ে পড়বে বনাঞ্চলে।
হেলাল উদ্দিন, উখিয়া 


















