দুশ্চিন্তা-হতাশায় দিন পার করছে উখিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা,২৫ কেজি চালের সরকারি বরাদ্দ বেশিরভাগ জেলে না পাওয়ায় ক্ষোভ,দ্রুত নতুন জেলে তালিকা প্রণয়নের দাবি।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগর-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় মিলছে আশাবাদ, তবে বিপাকে পড়েছে উখিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রকৃত জেলেরা।
সরেজমিনে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া নৌঘাট ও ইনানী নৌঘাট এলাকায় দেখা গেছে, শত শত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সহায়তার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রকৃত জেলেরা, বরং ভাতা পেয়েছেন প্রভাবশালী ও অপেশাদার অনেকে।
হামিদুল হক নামের এক জেলে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকার আমাদের এই নিষেধাজ্ঞায় ২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমাদের এই ঘাটে ২৫০ জন জেলের মধ্যে মাত্র ১৫ জন জেলে এই বরাদ্দ পেয়েছে। আমরা কিছুই পাইনি সংসার চালানো’তো দূরের কথা সন্তানের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হামিদুল হক আরো বলেন আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস সাগরে মাছ মারা কিন্তু আমরা সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সাগরে যাচ্ছি না। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাহলে আমরা কিভাবে সংসার চালাবো।
উত্তর সোনার পাড়া নৌঘাট জেলে সমিতির সভাপতি ফজলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার এই ঘাটে ৫৫ বোটে ২৫০ জন জেলে রয়েছে। তারা সবাই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতেছে কিন্তু মাত্র কয়েকজন ছাড়া আর কেউ সরকারি বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ কেন পায়নি জানতে চাইলে লিস্টে তাদের নাম নাই বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। এখন সাগরে মাছ শিকার বন্ধ তাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনরকম দিন পার করতেছে জেলেরা। অধিকাংশ জেলে ও বোট মালিকরাদের ঋণ রয়েছে এখন তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারতেছেনা। তিনি আরো বলেন আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আমাদের সকল জেলেরা যেন বরাদ্দ পাই সরকার যেন সেই ব্যবস্থা করেন।
ইনানী নৌঘাট জেলে সমিতির সভাপতি সিরাজ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার এই ঘাটে ৪শ জন জেলে রয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র ২শ জনের মত জেলে চাল বরাদ্দ পেয়েছে। বাকি অর্ধেক জেলে বরাদ্দের চাল না পাওয়াই মানবতার জীবন কাটাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন আমরা সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সাগরের মাছ শিকারে যাচ্ছি না কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জেলেদের কথা চিন্তা করতেছে না বলে অভিযোগ করেন। অনেক জেলে রয়েছে যারা এখনো পর্যন্ত তালিকায় নাম ওঠেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত নতুন জেলে তারিকা প্রণয়ন করে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্তি করার আহ্বান জানান এবং ইনানী এই ঘাটে একটি সৌর প্যানেল লাইট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এই জেলে নেতা।
এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন উখিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের মৎসজীবীরা। তারা বলছেন, মৌসুমের শেষ ভাগে যখন নদীতে ইলিশের মুখ দেখা শুরু করেছেন, তখনই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন জেলেরা। তাদের দাবি ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় যেন সকল জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়।
ইনানী কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরে কোনোভাবেই মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল রয়েছে বলে জানান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান।
উখিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান,আমার উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৩শ জন জেলে রয়েছে কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞায় মাত্র ১২৪৫ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ শুধু যারা ইলিশ শিকার করে তাদের জন্য বলে জানান তিনি। তবে ভবিষ্যতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে এবং সেজন্য তারা কাজ করতেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের মহৎ উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রকৃত জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে নিষেধাজ্ঞার সুফল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায় বলে মনে করেন তারা।
হেলাল উদ্দিন, উখিয়া 



















