ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলাফল স্থগিত করে কক্সবাজার-৪–এ ভোট পুনঃগণনার দাবি জামায়াত প্রার্থীর

জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর নূর আহমদ আনোয়ারী


আমার প্রাপ্ত ভোট গণনায় কম দেখানো হয়েছে। এটি সাধারণ ভুল নয়, বরং পুরো ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো গুরুতর বিষয়। তাই আমরা পুনঃগণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল বের করার দাবি জানাচ্ছি।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর নূর আহমদ আনোয়ারী শুক্রবার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন।

তিনি দাবি করেন, ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল প্রকৃত ভোটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নূর আহমদ আনোয়ারী জানান, চারটি আসনের বেসরকারি ফলাফলে তার সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীর ভোট ব্যবধান মাত্র ৯২৯। অথচ একই নির্বাচনে মোট ৪,৮৯৯টি ভোট বাতিল ও আপত্তিকৃত হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তার দাবি, এ ব্যবধানের তুলনায় বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের পর্যবেক্ষণ যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়নি। বহু কেন্দ্রের সিলকৃত ব্যালট ভুলবশত বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে গরমিল লক্ষ্য করা গেছে। পোস্টাল ভোটের গণনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। আমরা চাই প্রার্থী ও তার এজেন্টদের উপস্থিতিতে পুনঃগণনা নিশ্চিত হোক।

নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমরা চাই সর্বজনীন স্বচ্ছতা বজায় থাকুক। প্রকৃত ফলাফল যেন জনগণ জানে এবং ভোটের মূল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। স্থানীয় গণ্যমান্যরা যোগ করেছেন, পুনঃগণনা যদি করা হয়, তা কেবল প্রার্থীর জন্য নয়, ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বেসরকারি ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। নূর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ৫৪৯।

শাহজাহান চৌধুরী চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি তাকে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে নূর আহমদ আনোয়ারীর পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২২ বছরের দায়িত্ব, পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

উখিয়া-টেকনাফের ভৌগোলিক অবস্থানও ভোটের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দুই উপজেলা সীমান্তবর্তী, মিয়ানমারের সংলগ্ন। রোহিঙ্গা সমস্যা, নিরাপত্তা, সীমান্ত-নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বৈষম্য- সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এই আসনের প্রভাব ব্যাপক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দল এই আসনে জয়ী হয়েছে, তার প্রভাব কেন্দ্রীয় সরকারের সমীকরণেও প্রতিফলিত হয়। এ কারণে কক্সবাজার-৪–কে স্থানীয়ভাবে ‘লক্ষ্মী আসন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮। পোস্টাল ভোটসহ মোট ১১৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটের হার ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ফলাফল ঘোষণার পর শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থকরা আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষ থেকে মিছিল, মিষ্টি বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়েছে। তবে নূর আহমদ আনোয়ারীর পক্ষ থেকে পুনঃগণনার দাবি এবং স্বল্প ব্যবধানের ভোটের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে হিসাব-নিকাশ ও বিশ্লেষণ চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাত্র ১,৫৪৯ ভোটের ব্যবধান শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি আগামী নির্বাচনী পরিস্থিতিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটের সামান্য ওঠানামা এখানে ফল উল্টে দিতে পারে। অর্থাৎ সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় ইস্যুর সঠিক ব্যবস্থাপনা ফলাফলের নির্ধারক।

ফলাফল স্থগিত করে কক্সবাজার-৪–এ ভোট পুনঃগণনার দাবি জামায়াত প্রার্থীর

ফলাফল স্থগিত করে কক্সবাজার-৪–এ ভোট পুনঃগণনার দাবি জামায়াত প্রার্থীর

আপডেট সময় ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর নূর আহমদ আনোয়ারী


আমার প্রাপ্ত ভোট গণনায় কম দেখানো হয়েছে। এটি সাধারণ ভুল নয়, বরং পুরো ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো গুরুতর বিষয়। তাই আমরা পুনঃগণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল বের করার দাবি জানাচ্ছি।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর নূর আহমদ আনোয়ারী শুক্রবার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন।

তিনি দাবি করেন, ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল প্রকৃত ভোটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নূর আহমদ আনোয়ারী জানান, চারটি আসনের বেসরকারি ফলাফলে তার সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীর ভোট ব্যবধান মাত্র ৯২৯। অথচ একই নির্বাচনে মোট ৪,৮৯৯টি ভোট বাতিল ও আপত্তিকৃত হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তার দাবি, এ ব্যবধানের তুলনায় বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের পর্যবেক্ষণ যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়নি। বহু কেন্দ্রের সিলকৃত ব্যালট ভুলবশত বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে গরমিল লক্ষ্য করা গেছে। পোস্টাল ভোটের গণনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। আমরা চাই প্রার্থী ও তার এজেন্টদের উপস্থিতিতে পুনঃগণনা নিশ্চিত হোক।

নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমরা চাই সর্বজনীন স্বচ্ছতা বজায় থাকুক। প্রকৃত ফলাফল যেন জনগণ জানে এবং ভোটের মূল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। স্থানীয় গণ্যমান্যরা যোগ করেছেন, পুনঃগণনা যদি করা হয়, তা কেবল প্রার্থীর জন্য নয়, ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বেসরকারি ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। নূর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ৫৪৯।

শাহজাহান চৌধুরী চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি তাকে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে নূর আহমদ আনোয়ারীর পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২২ বছরের দায়িত্ব, পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

উখিয়া-টেকনাফের ভৌগোলিক অবস্থানও ভোটের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দুই উপজেলা সীমান্তবর্তী, মিয়ানমারের সংলগ্ন। রোহিঙ্গা সমস্যা, নিরাপত্তা, সীমান্ত-নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বৈষম্য- সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এই আসনের প্রভাব ব্যাপক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দল এই আসনে জয়ী হয়েছে, তার প্রভাব কেন্দ্রীয় সরকারের সমীকরণেও প্রতিফলিত হয়। এ কারণে কক্সবাজার-৪–কে স্থানীয়ভাবে ‘লক্ষ্মী আসন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮। পোস্টাল ভোটসহ মোট ১১৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটের হার ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ফলাফল ঘোষণার পর শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থকরা আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষ থেকে মিছিল, মিষ্টি বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়েছে। তবে নূর আহমদ আনোয়ারীর পক্ষ থেকে পুনঃগণনার দাবি এবং স্বল্প ব্যবধানের ভোটের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে হিসাব-নিকাশ ও বিশ্লেষণ চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাত্র ১,৫৪৯ ভোটের ব্যবধান শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি আগামী নির্বাচনী পরিস্থিতিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটের সামান্য ওঠানামা এখানে ফল উল্টে দিতে পারে। অর্থাৎ সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় ইস্যুর সঠিক ব্যবস্থাপনা ফলাফলের নির্ধারক।