ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানীসহ সরাদেশে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

  • মরজান আহমদ
  • আপডেট সময় ০১:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। ছবি: সংগ্রহীত


জমে উঠেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার- প্রচারণা । গত ২২ জানুয়ারি থেকে কোমর বেঁধে ভোটের প্রচারে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতীকের প্রার্থী-সমর্থকরা। দেশের বড় বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচনি জনসভা, পথসভা ও উঠানসভা। প্রচারের অংশ হিসেবে চলছে জনসংযোগ, লিফলেট বিলি, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা ও মিছিল।

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সব মিলিয়ে ভোটের প্রচার এখন তুঙ্গে। সেই সঙ্গে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরষ্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

তবে নির্বাচনি প্রচারকাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। অনেকে প্রচারে নেমে বাধার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিপক্ষের বাধা ও হামলার শিকার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, সংঘাত-হামলার খবর এলেও ভোটের মাঠের পরিবেশকে ‘চমৎকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের শেষভাগে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কমিশনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রমও বেড়ে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচার শুরুর দেড় সপ্তাহ পার না হতেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের আগে আগামী দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই কোথাও থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা পড়ার এবং প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার মতো অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই সেসবের বিরুদ্ধে ইসিকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আইনের শক্ত প্রয়োগ করতে হবে। তারা মনে করেন যে, এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে।

জনসভায় ব্যস্ত বড় দলগুলো:

গত ২২ জানুয়ারি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নেমেছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা। সিলেটের জনসভা থেকে ভোটের প্রচার শুরু করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই অংশ নিচ্ছেন দলীয় জনসভাগুলোতে। বিভিন্ন সভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শুধু ভোট দিলেই চলবে না। ভোট শেষ করে ওখানে থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আপনার ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে।

সিলেটের পর চট্টগ্রাম,রংপুরের, ময়মনসিংহসহ জনসভায় অংশ নিয়েছেন তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। জনসভা শেষে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও বিএনপি সমর্থিত শরিক দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এসব প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

জনসভার আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তারেক রহমান সড়কযোগে বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জের বামনপুর গ্রামে আসেন। এরপর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, বড় ভাই রমজান আলী, আবু হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

অন্যদিকে ঢাকার মিরপুরে জনসভা করে দলীয় প্রচার শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামী। এরপর দিনাজপুরের জনসভায় অংশ নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে যান দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গত সোমবার কুষ্টিয়া, মেহেরপুর পুরান ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার জনসভায় বক্তৃতা করেছেন তিনি। সর্বশেষ কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন প্রথমে যশোর ঈদগাহ ময়দানের নির্বাচনী জনসভায়; এরপর বক্তৃতা করেছেন কলারোয়া ও ডুমুরিয়ার পথসভায় এবং তারপর সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ, খুলনার সার্কিট হাউস মাঠ এবং বাগেরহাটের নির্বাচনী জনসভায়। আগামী ২ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জনসভা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জেলা জামাতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারি।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে ১০ দিনব্যাপী ‘নির্বাচনী পদযাত্রা’ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই পদযাত্রায় দলটি একদিকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন করছে। গত ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এনসিপির এ কর্মসূচি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। এদিকে বড় পরিসরে না হলেও নিজ নিজ দল ও প্রার্থীদের জন্য ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছে অন্য দলগুলোও। থেমে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারকাজও।

প্রচারে বাধা ও হামলা :

অভিযোগ উঠেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের গণসংযোগ তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে নারী সংগঠকদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এর জের ধরে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়, গত ২৮শে জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত মাওলানা রেজাউল করিম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা মারা গেছেন। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতাকর্মীদের ওপর ‘বিএনপির হামলা-হেনস্থা-ভয়ভীতির’ প্রতিবাদে আজ শনিবার প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা বিভাগের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘প্রতিবাদী সমাবেশ করার করার কত থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত করেন।

এদিকে গত দুই দিনে এনসিপির দুই প্রার্থীর প্রচারে হামলার অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত সোমবার ঢাকা-১৮ আসনে প্রচারকাজ চালানোর সময় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে পরদিন গত ২৭শে জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরেও ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ডিম ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:

নির্বাচনের প্রচারে নেমে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ও ধর্মের নামে রাজনীতি করার অভিযোগ আনছে বিএনপি। পাশাপাশি জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের এনআইডি কার্ড নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করার অভিযোগও করা হচ্ছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

প্রচার শুরুর পর থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ইসিতে এসে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টিসহ অনেকেই। বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এনে ইসিকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন দলগুলোর প্রতিনিধিরা। এখন অভিযোগের পরেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও হামলাসহ নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ইসি ও সরকারের নীরবতা জাতির সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা । তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এমন দুর্বলতা ও নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত; এর জন্য সংশ্লিষ্টদের জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

চমৎকার পরিবেশ দেখছে ইসি:

এদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও প্রচারে প্রার্থীদের ওপর হামলার মতো অভিযোগ সামনে এলেও ইসি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যা খবর পাচ্ছি এবং বাস্তবে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে যা দেখতে পাচ্ছি, তা থেকে কমিশন মনে করে, অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনে মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। প্রার্থীদের ওপর হামলা ও পরিবেশ সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের দিক থেকে প্রশ্ন এসেছে, অনেকেই এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করছে। কিন্তু কমিশন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করছে না। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই আমাদের কাছে আসছেন; ওনাদের পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ আমাদের জানাচ্ছেন। সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা সামান্যতম কোনো বিচ্যুতি গ্রহণ করব না। কারণ অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব। এজন্য এক সুতো পরিমাণ কোনো পক্ষপাতিত্ব আমরা মেনে নেব না।

বিশেষজ্ঞ অভিমত:

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা কেন বলা হচ্ছে তা বুঝতে হবে। কেউ ছোট অভিযোগ করলেও এটা নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নিতে হবে। এটা কি নিছকই অভিযোগ, নাকি বাস্তব ভিত্তি আছে সেটা দেখতে হবে কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসির অবশ্যই অনেক কিছু করার রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার, মাঠ প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেটা মনিটরিংয়ের কাজ কমিশনের।

ভোটের দিন শেষভাগের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ:

ভোটের মাঠে চমৎকার পরিবেশ দেখতে পেলেও নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের শেষভাগে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসি। এজন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৭ শে জানুয়ারি মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন অপরাহ্ণের দিকে প্রচুর ভোটার ভোট দিতে আসতে পারেন। শেষ মুহূর্তে যাতে ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ট্যাগস :

রাজধানীসহ সরাদেশে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

আপডেট সময় ০১:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। ছবি: সংগ্রহীত


জমে উঠেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার- প্রচারণা । গত ২২ জানুয়ারি থেকে কোমর বেঁধে ভোটের প্রচারে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতীকের প্রার্থী-সমর্থকরা। দেশের বড় বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচনি জনসভা, পথসভা ও উঠানসভা। প্রচারের অংশ হিসেবে চলছে জনসংযোগ, লিফলেট বিলি, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা ও মিছিল।

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সব মিলিয়ে ভোটের প্রচার এখন তুঙ্গে। সেই সঙ্গে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরষ্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

তবে নির্বাচনি প্রচারকাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। অনেকে প্রচারে নেমে বাধার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিপক্ষের বাধা ও হামলার শিকার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, সংঘাত-হামলার খবর এলেও ভোটের মাঠের পরিবেশকে ‘চমৎকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের শেষভাগে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কমিশনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রমও বেড়ে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচার শুরুর দেড় সপ্তাহ পার না হতেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের আগে আগামী দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই কোথাও থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা পড়ার এবং প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার মতো অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই সেসবের বিরুদ্ধে ইসিকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আইনের শক্ত প্রয়োগ করতে হবে। তারা মনে করেন যে, এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে।

জনসভায় ব্যস্ত বড় দলগুলো:

গত ২২ জানুয়ারি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নেমেছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা। সিলেটের জনসভা থেকে ভোটের প্রচার শুরু করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই অংশ নিচ্ছেন দলীয় জনসভাগুলোতে। বিভিন্ন সভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শুধু ভোট দিলেই চলবে না। ভোট শেষ করে ওখানে থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আপনার ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে।

সিলেটের পর চট্টগ্রাম,রংপুরের, ময়মনসিংহসহ জনসভায় অংশ নিয়েছেন তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। জনসভা শেষে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও বিএনপি সমর্থিত শরিক দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে এসব প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

জনসভার আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তারেক রহমান সড়কযোগে বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জের বামনপুর গ্রামে আসেন। এরপর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, বড় ভাই রমজান আলী, আবু হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

অন্যদিকে ঢাকার মিরপুরে জনসভা করে দলীয় প্রচার শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামী। এরপর দিনাজপুরের জনসভায় অংশ নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে যান দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গত সোমবার কুষ্টিয়া, মেহেরপুর পুরান ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার জনসভায় বক্তৃতা করেছেন তিনি। সর্বশেষ কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন প্রথমে যশোর ঈদগাহ ময়দানের নির্বাচনী জনসভায়; এরপর বক্তৃতা করেছেন কলারোয়া ও ডুমুরিয়ার পথসভায় এবং তারপর সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ, খুলনার সার্কিট হাউস মাঠ এবং বাগেরহাটের নির্বাচনী জনসভায়। আগামী ২ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জনসভা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জেলা জামাতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারি।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারা দেশে ১০ দিনব্যাপী ‘নির্বাচনী পদযাত্রা’ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই পদযাত্রায় দলটি একদিকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন করছে। গত ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এনসিপির এ কর্মসূচি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। এদিকে বড় পরিসরে না হলেও নিজ নিজ দল ও প্রার্থীদের জন্য ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছে অন্য দলগুলোও। থেমে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারকাজও।

প্রচারে বাধা ও হামলা :

অভিযোগ উঠেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের গণসংযোগ তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে নারী সংগঠকদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এর জের ধরে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়, গত ২৮শে জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত মাওলানা রেজাউল করিম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা মারা গেছেন। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতাকর্মীদের ওপর ‘বিএনপির হামলা-হেনস্থা-ভয়ভীতির’ প্রতিবাদে আজ শনিবার প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা বিভাগের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘প্রতিবাদী সমাবেশ করার করার কত থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত করেন।

এদিকে গত দুই দিনে এনসিপির দুই প্রার্থীর প্রচারে হামলার অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত সোমবার ঢাকা-১৮ আসনে প্রচারকাজ চালানোর সময় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে পরদিন গত ২৭শে জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরেও ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ডিম ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:

নির্বাচনের প্রচারে নেমে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ও ধর্মের নামে রাজনীতি করার অভিযোগ আনছে বিএনপি। পাশাপাশি জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের এনআইডি কার্ড নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করার অভিযোগও করা হচ্ছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

প্রচার শুরুর পর থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ইসিতে এসে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টিসহ অনেকেই। বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এনে ইসিকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন দলগুলোর প্রতিনিধিরা। এখন অভিযোগের পরেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও হামলাসহ নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ইসি ও সরকারের নীরবতা জাতির সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা । তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এমন দুর্বলতা ও নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত; এর জন্য সংশ্লিষ্টদের জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

চমৎকার পরিবেশ দেখছে ইসি:

এদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও প্রচারে প্রার্থীদের ওপর হামলার মতো অভিযোগ সামনে এলেও ইসি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যা খবর পাচ্ছি এবং বাস্তবে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে যা দেখতে পাচ্ছি, তা থেকে কমিশন মনে করে, অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনে মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। প্রার্থীদের ওপর হামলা ও পরিবেশ সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের দিক থেকে প্রশ্ন এসেছে, অনেকেই এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করছে। কিন্তু কমিশন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করছে না। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই আমাদের কাছে আসছেন; ওনাদের পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ আমাদের জানাচ্ছেন। সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা সামান্যতম কোনো বিচ্যুতি গ্রহণ করব না। কারণ অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব। এজন্য এক সুতো পরিমাণ কোনো পক্ষপাতিত্ব আমরা মেনে নেব না।

বিশেষজ্ঞ অভিমত:

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা কেন বলা হচ্ছে তা বুঝতে হবে। কেউ ছোট অভিযোগ করলেও এটা নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নিতে হবে। এটা কি নিছকই অভিযোগ, নাকি বাস্তব ভিত্তি আছে সেটা দেখতে হবে কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসির অবশ্যই অনেক কিছু করার রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার, মাঠ প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেটা মনিটরিংয়ের কাজ কমিশনের।

ভোটের দিন শেষভাগের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ:

ভোটের মাঠে চমৎকার পরিবেশ দেখতে পেলেও নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের শেষভাগে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসি। এজন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৭ শে জানুয়ারি মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন অপরাহ্ণের দিকে প্রচুর ভোটার ভোট দিতে আসতে পারেন। শেষ মুহূর্তে যাতে ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।