ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে লবণ ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় 

  • মরজান আহমদ
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের হাজার হাজার একর জমিতে বর্তমানে লবণ চাষ চলছে। এটি লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুম হলেও গত কয়েক দিন ধরে আকাশ মেঘলা ও ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। বিশেষ করে গত তিন দিন ধরে সূর্যের পর্যাপ্ত তাপ না পাওয়ায় লবণ মাঠে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপও মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ লবণ চাষে বিনিয়োগ করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লবণ মিলের মালিকরা। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

মহেশখালীর কালারমারছড়া লবণ চাষি মাহমুদুল হক বলেন, লবণ মাঠে ঢোকানো সমুদ্রের লোনা পানি কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে বায়ু প্রবাহ ও প্রখর রোদের তাপ প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ জনিত গুমোট আবহাওয়ায় প্রক্রিয়াকৃত পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে উৎপাদন উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত লবণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।

বিসিক জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার লবণ চাষি মাঠে কাজ করছেন।

সূত্রমতে গত বছর এই সময়ে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ২৪ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন। আর চলতি মৌসুমে গত ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছ মাত্র ৫ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন।

লবণচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে লবণ উৎপাদন ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে লবণ চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চলতি মৌসুমে দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদন এলাকা কক্সবাজারে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিকের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া ফেভার না করলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া শঙ্কা থেকে যায়।

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য মুবিনুল ইসলাম নয়ন সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত

কক্সবাজারে লবণ ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় 

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের হাজার হাজার একর জমিতে বর্তমানে লবণ চাষ চলছে। এটি লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুম হলেও গত কয়েক দিন ধরে আকাশ মেঘলা ও ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। বিশেষ করে গত তিন দিন ধরে সূর্যের পর্যাপ্ত তাপ না পাওয়ায় লবণ মাঠে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপও মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ লবণ চাষে বিনিয়োগ করেছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লবণ মিলের মালিকরা। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

মহেশখালীর কালারমারছড়া লবণ চাষি মাহমুদুল হক বলেন, লবণ মাঠে ঢোকানো সমুদ্রের লোনা পানি কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে বায়ু প্রবাহ ও প্রখর রোদের তাপ প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ জনিত গুমোট আবহাওয়ায় প্রক্রিয়াকৃত পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে উৎপাদন উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত লবণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।

বিসিক জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার লবণ চাষি মাঠে কাজ করছেন।

সূত্রমতে গত বছর এই সময়ে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ২৪ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন। আর চলতি মৌসুমে গত ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছ মাত্র ৫ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন।

লবণচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে লবণ উৎপাদন ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে লবণ চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চলতি মৌসুমে দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদন এলাকা কক্সবাজারে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিকের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া ফেভার না করলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া শঙ্কা থেকে যায়।